Sunday, August 18, 2024

কবি ও গদ্যকার দেবজ্যোতি রায় এবং অধমের অক্ষমতা

কবি ও গদ্যকার দেবজ্যোতি রায় প্রয়াত 😥

কবি ও গদ্যকার দেবজ্যোতি রায় এবং এ অধম


জীবনে কত কিছু শুধু ভেবেছি। করি করি করে ফেলে রেখেছি, করা হয়নি। করতে গিয়ে পেরে উঠিনি বলে হাল ছেড়ে দিয়েছি হতাশায়। এদিকে সময় তার নিজের গতিতে আমার চারপাশটাকে দুমড়ে দিয়ে চলছে নিত্য। বেশিরভাগ সময় যা আমায় ছুঁতে পারে না। নিজেকে মনে হয় মাঝেমাঝে বোধহীন। যদিও জানি বোধের থাকা না থাকায় বয়সের চলা থামে না, ব্যক্তিগত মৃত্যু ঠিকই আসে, কখন দুম করে।...দেবজ্যোতি রায়, কিছু কাজ ছিল করার, চিরকালের জন্য বাকিই থেকে গেলো আমার। খুব অল্প সান্নিধ্য, সেটুকুই স্মৃতি, যতক্ষণ আমি।


অধমের অক্ষমতা...

বার কয়েক দেখা হয়েছিল। আমার লেখাকে পছন্দ করতেন প্রকাশ্যেই বলতেন এবং আমাকেও হয়তো পছন্দ করতেন ব্যক্তি মানুষ হিসাবে। শেষ দু'বছর ফেসবুকে আমি নেই। এবং হোয়াটসঅ্যাপে টুকটাক থাকি বাধ্য হয়েই, কর্মসূত্রে। লেখালেখির জগতের দু'চারজনের সঙ্গে  হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাস ধরে যা-যেটুকু কথাবার্তা হয় নইলে যোগাযোগ বিছিন্ন লেখার জগত থেকে। এমন হনুও নই যে অন্যেরা হত্যে দিয়ে এসে খোঁজখবর নেবে। নিজেও খোলসে ঢুকে থাকায় যে দু'একজনের সঙ্গে কথাবলার ইচ্ছে থাকে তাও আর হয় না। এ কারণেই দেবজ্যোতি রায়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন মোলাকাত বা কথাবার্তা নেই। অথচ কাল গল্পকার প্রলয় নাগের স্ট্যাটাস সূত্রে জানলাম তিনি অসুস্থ। আজ দুপুরে আরেকজনের স্ট্যাটাস দেখে বুঝলাম তিনি প্রয়াত! তারপরই একটু খোঁজ নিতে গিয়ে জানলাম অনেকদিনই তিনি অসুস্থ। অথচ আজকেই সকালে ভাবছিলাম অনেক দিন তো বেরোই না আজকে একবার বেরিয়ে পড়ি ওদিকটায়, তারপর তো এতকিছু...  আমার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'ব্লিডিং বরষে হৃদি'র একটা ভূমিকা/মুখবন্ধ লেখার কথা ছিল সেই করোনাকালে কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি পরে সেটা ছাড়াই বই বেরল, বই প্রকাশের অনুষ্ঠানে অবশ্য তিনি ছিলেন আলিপুরদুয়ারে প্রকাশক শাঙ্খিক আয়োজিত অনুষ্ঠানে এবং ছোট্ট একটা বক্তৃতা  ছিল তাঁর।


মনে মনে ভেবেছিলাম আগামী গদ্যের বইটায় (যদি প্রকাশের আলো দেখে আর কি!) না-হওয়া কাজটা হবে। কিন্তু সে আর হবে না চিরকালের মতো।


তাঁকে নিয়ে একটা বিশেষ সংখ্যা করার পরিকল্পনা ছিল আমার পত্রিকা ইবলিশের তরফে, নাহ্‌ সেও হলো না। এগুলো আমার একেকটা চরম অপারগতা, বড়ো ব্যর্থতা। 


১৮.০৮.২০২৪ | রাহেবুল |

Monday, February 26, 2024

কবিতা ব্লেডজ কুসুম - রাহেবুল





এইভাবে / এই ভবে / ব্ল্যার / ব্লেডজ কুসুম   -  রাহেবুল   ('ব্লিডিং বরষে হৃদি' কাব্যের একটি কবিতা)

                                                          

নিয়মিত সে জিজ্ঞেস করে একটা কথা, একটা সময়ে। খবরাখবর নেয়ার স্বেচ্ছা ইচ্ছে হয়তো-বা। 

খবররা পায় কি সে?

জিজ্ঞেস করে—

ঘুম হয়েছে?

না।

ঘুম হয়েছে?

না।

ঘুম হয়েছে কাল?

না।

ঘুমিয়েছ কাল?

ততটা ভালো নয়।

ঘুম হয়েছিল?

না।


****


বলে—

পাগলাগারদে কবে যাবি?


****


কোনোদিন গা গরম, গায়ে জ্বর। বা রাত্তিরে।


অথবা 


কোনোরাত নিদ্রাহীন, ঘুম নেই।

কোনোরাত সর্দি-হাঁচি-সিঙ্গন, নাক বন্ধ 


অথবা 


সাদা পরির সম্মোহন 


অথবা 


সেক্সচ্যাট


অথবা


ব্লেডজ মায়া 


****


পাগলাগারদে যাইনি অদ্য অবধি। তার এসএমএস নাকি মেসেজ নিয়মিত আসে আজও। 


আজও সে অনিশ্চিন্তপুরে ডি। 

এইভাবে সময় গড়ায়। সময় কী? 

সে কে?

কে সে?


দু হাতে দড়ি বেঁধে, কোমরে বেঁধে, দু পায়ে বেঁধে, কাকে বেঁধেছ হে বটবৃক্ষ?

আর কত হাত, কত চোখ, কত মুখ— উন্মুখ। 


খাপ বসেছে ঘুমের নৈরাজ্যে। ঘুমের গুড়ি গুড়ি বীচিগুলান কেমন আমাছামা লাগে... কেমন ব্ল্যার... কীসব টক্সিসিটি, এক সময় নিন্দালু হই। 


দণ্ডে দণ্ডে আইসে যায়। 

ডাংঘড়ির কাটা যেন।

বলে—

পাগলাগারদে কবে যাবি?


Tuesday, January 2, 2024

আলিপুরদুয়ার জেলা বইমেলা

আলিপুরদুয়ার জেলা বইমেলা



আলিপুরদুয়ার বইমেলা 


অনেকদিন ধরে বইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ নেই বললেই চলে। নতুন কেনাকাটাও তাই বন্ধ। পকেটও ফাঁকা। লেখালেখিও একপ্রকার বন্ধ। যদিও এখনও বাঁচাটা কবিতাতেই, অন্তত মাথায় তার উপস্থিতি সদা টাটকা।... যথারীতি বইমেলাগুলো হচ্ছে। এবারে জেলা বইমেলা আবার ফালাকাটাতেই, সে একটা আনন্দের ব্যাপার। আজকে তার শুরু। তাই কাজ থেকে ফেরার পথে একবার ঢুঁ মারা আটকানো গেল না। ঘুরে নিলাম চট করে স্টলগুলো। হ্যানোত্যানোর স্টল বাদ দিলে বইয়ের স্টল সাকুল্যে ওই ১৫-২০, তার মধ্যে কলিকাতার ভালো প্রকাশনী মাত্র পাঁচটা— দে'জ, পারুল, সোপান, প্রগ্রেসিভ, শিশু সাহিত্য সংসদ। উত্তরের ভালো প্রকাশনী মাত্র দুটি— বিয়ন্ড হরাইজান ও পুলি (শহরতলি, শাঙ্খিক, ডুয়ার্স... এদের থাকাটা দরকার ছিল)। হ্যাঁ একটা লিটল ম্যাগাজিন স্টল ছিল। সব মিলিয়ে খুব একটা আশাব্যঞ্জক আয়োজন বলা যায় না। তবু মন্দের ভালো, অন্য কিছু নয় একটা বইমেলা তো, তাও আবার জেলা বইমেলা। এটুকুও কম পাওয়া নয়।


নেবার মতন বই নেই নেই করে হয়তো তাও কয়েকটা হয়েই যাবে কিন্তু লোভ সংবরণ করেছি। মাত্র একটা বই, প্রবন্ধের, 'প্রান্ত বাংলার হাটের ইতিবৃত্ত' (জেলা আলিপুরদুয়ার) নিয়ে বাড়ি ফিরেছি প্রথম দিন, অন্যদিন দেখা যাক কী হয়। প্রকাশক বিয়ন্ড হরাইজন।  


—রাহেবুল

Wednesday, February 15, 2023

সবের মাঝারে...



দেওয়া যায় সব শিরোনাম একসঙ্গে। আপাতত যেমন: মদীয় ফ্যান্টাসি, ব্লিডিং বরষে কিংবা ঘূর্ণন দেখছি ... সব কিছুই ঝাপসা, সবের মধ্যে ঘূর্ণন, ব্যথাট্যাথা আর সবে মিলে ফ্যান্টাসি... ইত্যাদি।

Sunday, November 13, 2022

বিদায় অ্যাভেঞ্জার...

দেড় বছর ধরে, একসঙ্গে ছুটেছি ২০ হাজার কিমি। জেন্ সাধু-শিষ্য নই, নইলে এতদিন তুইও ছিলি আমার বুদ্ধ, পথে পথে আর জলঢাকা-মানসাইয়ের ঘাটে। ভাঙাচোরা পথ, এক ঊরু জল, বিস্তর বালুচর, আর থিকথিক কাদায়। বিদায় অ্যাভেঞ্জার... চল্ নতুন শুরু, তোরও, আমারও। 



Thursday, February 17, 2022

'মদীয় ফ্যান্টাসি'র সবচেয়ে নিরাভরণ কবিতাটি, চাকা

'চাকা', 'মদীয় ফ্যান্টাসি'র সবচেয়ে ছোট্ট কবিতা। সবচেয়ে নিরাভরণ। না, লোকে পোঁছে কিনা এক্ষেত্রে সেটা বড়ো কথা নয়, মাঝেমাঝে এর স্মরণ নিতে আমারই ভালো লাগে... হৃদয় খোঁড়াখুঁড়ি আরকি, কবির যতই বারণ থাকুক...

 


চাকা


আত্মহত্যার ঢিবি

আর কুটিরশিল্পের দেশি রাইফেল

কোনোদিন ফিরে আসে…




Saturday, February 5, 2022

কবি রাহেবুল এবং তার "নিজস্ব-ঈ"

লেখালেখির পাঁচ-দশ বছরে প্রথম কেউ প্রকাশ্যে যেদিন রাহেবুলের লেখা নিয়ে [মূলত 'মদীয় ফ্যান্টাসি' কাব্যের 'তাড়ুয়া' লেখাটি প্রসঙ্গে, যদিও তখনও বই হওয়া বাকি ছিল] সংক্ষিপ্ত হলেও দু কথা বলেছিল... বলেছিল ধী।

'তাড়ুয়া', পরবর্তীতে 'মদীয় ফ্যান্টাসি' কাব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কবিতা

♣ রঁদেভু : ৬ ♣

📜

কবি রাহেবুল এবং তার "নিজস্ব-ঈ"

📄

কবি রাহেবুল, তিনি ঠিক সমান্তরালে চলেন না। আবার দলছুট এর সাথে ও তাঁর আড়ি নেই। এক অদ্ভুত সুন্দর খেলায় মেতে ওঠেন স্ব-শব্দে। ঠিক ধরা কিংবা ছোঁয়ার বাইরে কিংবা ভেতরের দ্বন্দে না গিয়েও মরমীয়া পাঠক ঠিক খুঁজে নিতে পারেন তাঁর শাব্দিক মায়াজাল। আসলে কবি রাহেবুল ঠিক এখানেই আলাদা, অন্য-রকম।

"তাড়ুয়া" তে তেমনি এক "নিজস্বী" তে মাতিয়ে রাখেন আমাদের। আমরাও তাঁর শব্দের সঙ্গী হয়ে উঠি। হয়ে উঠতে চাই।

✍

@ ধী: ১২-০২-২০১৯

(রাহেবুলের 'তাড়ুয়া' কবিতার পাঠ-প্রতিক্রিয়া/আলোচনা। আলোচক: ধী)

 

Sunday, January 30, 2022

শীত কিংবা শীতের সংলাপ: রাহেবুলের সৃষ্টি শুধু খেজুররস নয়—নীলাদ্রি দেব

রাহেবুলের কবিতা নিয়ে বিশেষত সদ্য প্রকাশিত দ্বিতীয় কাব্যি 'ব্লিডিং বরষে হৃদি' নিয়ে তরুণ কবি নীলাদ্রি দেব এই শীতের মরশুমে যে-মতন কাতর হলেন... 




শীত কিংবা শীতের সংলাপ: রাহেবুলের সৃষ্টি শুধু খেজুররস নয়—নীলাদ্রি দেব 

এটা কোনো পাঠপ্রতিক্রিয়া নয়. ভালো/মন্দ লাগা জানানো নয়. একটা শীত কতটা শীত দিল/ দিচ্ছে, ততটা বলার চেষ্টা. অতএব কোনো গদ নেই. আর আঠা না থাকলে কী করে পাশাপাশি লেগে থাকবে শব্দগুলো, এই অআকখ থেকে দূরে রাহেবুলের লেখার জলাশয়ে ঢিল ছুঁড়ে দিই. ঢিলের শব্দ আর জলাশয়ের গভীরতা সম্পর্কযুক্ত. এবারে মনে হবে, সাগর না বলে নদী না বলে এ তল্লাটকে সামান্য জলাশয় কেন বললাম. আসলে সামান্য হওয়াটা সহজ নয়. যতি নয়, ভাষা নয়, সূত্র নয়, সমস্যা সমাধানের ঐকিক নয়... রাহেবুলের লেখা বিন্দুর গড়িয়ে যাবার মতো. বিন্দুই রেখা হয়ে ওঠে. সরল? কোনো মনোটনি নেই. অথচ 'ওনার গুরুত্বপূর্ণ পংক্তিগুলো নিম্নরূপ-' বলার অবকাশ নেই. কবিতার ভেতরে অসংখ্য কবিতা, অসংখ্য কবিতা ঘিরে একটিই কবিতা, কবিতা তো সমস্ত জীবন... এসবের সমান্তরালে যে আলপথ, তার কোলে বসে রাহেবুল. ওকে পাঠ করা শ্রমসাপেক্ষ. গতকাল ও আজ = আজ, এটা ওকে পাঠের মূল শর্ত মনে হয়. 'মদীয় ফ্যান্টাসি'র রাহেবুল, 'ব্লিডিং বরষে হৃদি'র রাহেবুল কবিতাগদ্যছবি/ 'সঙ্গে কতেক ছাইপাঁশ' বলতে কী বোঝেন, আপাতত তাঁর জিম্মায়. জার্নি জারি. এটা শেষ শব্দ.

প্রচ্ছদ সুন্দর. প্রোডাকশনও. সাজানোগোছানো. তবে, কেত ও কায়দাবাজি আছে. শাস্ত্রীয় নাকি লোকজ, এসবে যাবেন না. এতো সব অপশন আছে বলেই তো গণতন্ত্র.

  

ব্লিডিং বরষে হৃদি

রাহেবুল

শাঙ্খিক

আশি টাকা

Sunday, January 16, 2022

সাধো

সারাদিন এইসব দ্রষ্টব্যে উঁকিঝুঁকির পর, ক্যামেরায় দু'একটাকে স্থিতি দেবার পর... ঘরে ফিরে মনে পড়ে, বা মাথায় আসে যা... 'মদীয় ফ্যান্টাসি' থেকে সেই 'সাধো'—


💀🛶🌃🕸️🔛


একটা ঠ্যাং কবরে, তাহে কী? সাঁঝদিগন্তে পাখনা মেলিছে সাধো। 




Saturday, January 15, 2022

ব্লিডিং বরষে



শুয়ে শুয়ে পাতা ওল্টাচ্ছিলাম 'ব্লিডিং বরষে'র। নিজের লেখাজোখা, বর্তা-মরার এটা একটা মুখব্যাদান। ঠিক এর পরে ছিল 'কেন লিখি' সেই ফিরিস্তি। ঠিক তার আগে ছিল, ২০০০-এর বারোটা যখন বেজেছিল সেই ছটফটানি, তার আগে ছিল ২০০০বিষ-এর কবিতা তিনটে, না চারটে। তারও আগে কবেকার ২০১৯ এক, কত উল্লম্ফন, কবিতা কওয়া যায় বা যায় না। আর তারও আগে ছিল (আছে) মদীয় ফ্যান্টাসি, দেখতে পাই।   



গানও শুনছিলাম অবশ্য, এমন এক শিল্পীর, ইউটিউবে, একটাও লাইক নেই, ভিউ চারটা কী পাঁচটা কিন্তু হ্যাঁ তাকে আমি চিনি, 'বারুদ' বলে একটা গান তার অনেক শুনেছি একদা।

Thursday, January 13, 2022

ব্লিডিং বরষে হৃদি। এক রক্তাক্ত হৃদয়ের উপাখ্যান।

|| 'ব্লিডিং বরষে হৃদি'র পাঠ-প্রতিক্রিয়া। কথায় কবি ওয়াহিদার হোসেন ||

ব্লিডিং বরষে হৃদি। এক রক্তাক্ত হৃদয়ের উপাখ্যান। 



ব্লিডিং বরষে হৃদি। এক রক্তাক্ত হৃদয়ের উপাখ্যান। বমিসম্ভুত এক কাব্য। অনর্গল বিষাদ গলাধঃকরণের যেন ফলাফল এই কবিতা সমূহ রাশি। উৎসর্গ করা হয়েছে রু কে তিনি রা নামের সূয্যি দেবের কন্যা, স্ত্রী ফারহানা মানে আনন্দময়ী আর শেফালী এবং চৈতি। উৎসর্গ পত্রেও চূড়ান্ত রকমের ব্যতিক্রমী উদযাপন। হুবহু পড়তে গেলে বইটি কিনে পড়তে হবে। আর হ্যাঁ অবশ্যই এই বই ব্যতিক্রমী তাই স্বাদে মানে স্বোয়াদে একদম রাহেবুলীয় এক গাথা।

 

কবিতাগুলি ভিন্ন ভিন্ন সময়ে লেখা হয়েছে। ‘ঘূর্ণন দেখছি’র শেষ টা এখানে শুরু হয়েছে। সে এক বিজ্ঞাপন আগামী কাব্যির। কবিতাগুলি দু’হাজার উনিশের লেখা।

দ্বিতীয় কবিতা— ‘এইভাবে/এই ভবে/ব্ল্যার/ব্লেডজ কুসুম’

(এই বই পড়ুন ব্লেডজ কুসুম) ভুল করবেন না ‘ক্লেদজ কুসুম’ বলে। ইনি বোদলেয়ার নন আমাদের প্রিয় কবি যিনি প্রথম কবিতায় আমাদের রক্তাক্ত করেন দুমুখি ধারালো এক ব্লেডে।

দুই প্রেমিক প্রেমিকা অনুহ্য থেকেছে। তাদের সংলাপ বিরচিত হয়েছে। কি অসাধারণ কাব্যগুণ—

ঘুম হয়েছে?

না।

ঘুম হয়েছে?

না।

ঘুম হয়েছে কাল?

না।

ঘুমিয়েছ কাল?

ততটা ভালো নয়।”

এরপর চলতেই থাকে দীর্ঘ কবিতাটি।

সাদা পরির সম্মোহন

 

অথবা

 

সেক্সচ্যাট

 

অথবা

 

ব্লেডজ মায়া”

এই হচ্ছে রাহেবুলীয় প্রেমের সংজ্ঞা। যেখানে প্রেম নিয়ে কবিকল্পনা নেই। ঝর্ণা নেই। আছে শুধু শরীরি উত্তাপ আর চূড়ান্ত ভোগবাদী এক প্রজন্মের তুমুল সেক্সচ্যাট। যা স্বাভাবিক। রিয়েল এক পৃথিবীর ছবি তুলে ধরে যেখানে ভোর নেই শুধু ঘুমহীন অনন্তরাত।

একসময় রাষ্ট্র সমাজের পচন উঠে আসে কবি নিশ্চিন্ত স্বাভাবিক উচ্চারণ করেন—

খাপ বসেছে ঘুমের নৈরাজ্যে। ঘুমের বীচিগুলান কেমন আমাছামা লাগে...কেমন ব্ল্যার… কীসব টক্সিসিটি, একসময় নিন্দালু হই।”

ক্লান্ত হতে হতেও কবি আমাদের শেষ ক’টি লাইনে আমাদের সমাজ সভ্যতার ‘ব্ল্যার’ ‘আমাছামা’ অংশটি তুলে ধরে আমাদের নিয়তি দেখিয়ে দেন অথবা সময়সচেতন কবি এখানেই নিস্তব্ধতার গান ফাঁদেন—

ডাংঘড়ির কাটা যেন।

বলে-

পাগলা গারদে কবে যাবি?”

 

ভাষা, শব্দ নির্বাচনে কবি নির্মোহ। দেশীয় রাজবংশী শব্দ অবলীলায় ব্যবহার করেছেন। কবির তির্যক প্রতিবাদ সীমানা অতিক্রম করে আন্তর্জাতিকতার সীমানাও পেরিয়ে গেছে। সমগ্র মানব সমাজ মানচিত্র হয়ে উঠেছে ব্যঙ্গের বিষাদের লক্ষ্যস্থ্ল এবং কারণ—

উলঙ্গরা রাজা, রাজপাট তাহাদের।”

আবার অন্য কবিতায়—

ডান্ডায় বাধা ঝাণ্ডাগুলান সমস্বরে বলে উঠলো: ইনকিলাব

কতেক রামাল্লাহ্‌ আগের মতোই বোবাকালাকানা রহিলেন

পাড়ার গুণ্ডা শুধালো: বাঞ্চোত! শাসকই সময়!”

 

শব্দের স্ফুরণ। অগ্নি। যা ক্রমাগত জ্বালিয়ে গেছে আমাকে। কবিতা পড়তে পড়তে বইটা বহুবার বন্ধ করে বুঝেছি এ আসলে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আত্মসমালোচনা করার মতো যে এখুনি হয়তো বাথরুম থেকে ফিরে এসে নিজের ধোওয়া আধাধোওয়া প্রত্যেক্টি অংশ পচন দেখতে পাচ্ছে তাকে তুলে ধরছে শব্দ বাক্য কখনো নৈশব্দ্যঃ কখনো আবার স্পেসের মাধ্যমে। বস এই কবিতাগুলি পড়তে গেলে সাহস লাগবে। আর হ্যাঁ এই কবিতা হয় রাস্তায় পাগলের মতো দাঁড়িয়ে থুতু ছিটিয়ে সমাজ সভ্যতার ধর্মের গায় পাঠ করতে পারেন, হবে নতুবা চুপ করে আত্মস্থবির হয়ে যেতে হবে। উল্লেখ্য এই বইয়ে আরও দু’টো গদ্য রয়েছে সেগুলো সম্পর্কে আলোচনা করতে গেলে আরও দীর্ঘ পরিসরের প্রয়োজন। আর হ্যাঁ বইটি বুকসেল্ফে রাখার জন্য নয়। যারা ব্যাতিক্রমী লেখা পড়েন তারা অবশ্যই সংগ্রহ করুন। আর হ্যাঁ বইটি আমাদের উপহার দিয়েছেন প্রকাশক আমাদেরই ভাইবেরাদর সুকান্ত দাস।

 

কবিতার প্রচ্ছদ খুব সুন্দর। করেছেন কৃষ্ণেন্দু নাগ।

প্রচ্ছদের রূপটান সুপ্রসন্ন কুণ্ডুর।

মূল্য আশি টাকা।

প্রকাশক শাঙ্খিক।

 


Tuesday, January 4, 2022

একা আর একক হই

কিছু মানুষকে দেখে প্রথমে হাসি পায়, কখনও কষ্টও পায় খানিক পরে। সবচেয়ে বড়ো যাতনা হলো এগুলো কোথাও বলবার নেই, শোনার কেউ নেই তো। আর শুনলেও বুঝবে তো? জানি না একদিন বেটি রু কেমন হবে বোধে। লেখাজোখায় বা আঁকিবুঁকিতে দৈবাৎ যখন ফিল্টার হয়ে আসে এইসব, তারাও ঠিকই আমার মতন একা আর একক হয়ে ওঠে। এ ধারণা এমনি এমনি নয়। এজন্যও অবশ্য সেই পড়ে থাকে আমাকে পড়াটুকু। কষ্ট কে করবে? কেন করবে? 'ইবলিশ'-এর মতন অনামা-অনিয়মিত পত্রিকা কেন পড়বে কেউ? কেন পড়বে 'মদীয় ফ্যান্টাসি' বা 'ব্লিডিং বরষে' বা 'ঘূর্ণন দেখছি'? কেননা এরা একা ও একক। 



Saturday, January 1, 2022

রাহেবুলের গদ্য...

দুপুর বেলা ঘাসের ওপর শুয়ে শুয়ে তখন। মাথার ওপর একটা চিল ঘুরপাক খাচ্ছিল, শকুনের ন্যায়। মোবাইল তাক করতে তিনি ছবিতে ধরা দিলেন। এবং আমার মনে পড়ল 'যেদিনকে ডানা আর ডুবুরি' গদ্যটার কথা। তারই অংশবিশেষ পাঠক সমীপে।

 

চিলার উড়ান

*********

 

...... আব্বাকে ছোটবেলায় কে নাকি শিখিয়ে দিয়েছিল ‘চিলার উড়ান’। কীভাবে নিজেই চিল হওয়া যায়, ডানা গজিয়ে নিতে হয়, ডানা বেঁধে উড়তে হয় শিখিয়েছিল। বাবা শেখেনি ভালো মতন। ঠকে শেখেনি। ঠকবার গল্প তবু বাবা জানত, বলেছিল। উড়বার তাড়না বাবার একার তো নয়, অনেকের ছিল, থাকে। আজও অমনই আছে দিন বদলে গেলেও, রাত্তির না বদলালেও। বাবা শেখেনি উড়ান, আমিও শিখিনি। শোনাটা কেবল কানে কানে মুখে মুখে চোখে চোখে সরু অলিগলি কিংবা আলপথ হয়ে আমাদের মধ্যে। ভেতরবাড়িতে হাজির। ভেতরবাড়িটা কখনও, কখন দ্যাশবাড়ি হয় আবার। একটা গল্প সকলে জানে ডানা ভাঙার। ভেঙেছিল এক গাঙচিলের। বাংলার পুব হতে সে অতিদূর কোনো কলিকাতা এসেছিল উড়ে উড়ে। বা কলিকাতা থেকে কোথাও কামরূপ-কামতাপুর গেছিল উড়ে উড়ে। এমতন কত উড়ান। কোথা থেকে কোথায় যায় কে। আবার একাধিকটা গল্প জানিনা ডানার, আর তার চিলের। কেউ কেউ। যেমন চিলা রায়। সেও আছিল এক চিল। যেমন পরি। পরিরা নাকি রাজা-রাষ্ট্র-রাক্ষস ইত্যাদির গড়া সীমান্ত পেরতে গিয়ে নিয়ত তাদের ডানা খোয়ায়।........




Saturday, December 25, 2021

‘ব্লিডিং বরষে হৃদি’র পাঠ প্রতিক্রিয়ায় কবি কৌশিক সেন

 

‘ব্লিডিং বরষে হৃদি’র পাঠ প্রতিক্রিয়া— কৌশিক সেন

“সকলই বোধয় ফ্যান্টাসি...

হৃদি বরষে।  ব্লিডিং বরষে।  বরষে যায়...


স্বপন জাল বুনে, যথা মাকড়সার জাল...”


জাল বোনেন কবি রাহেবুল।  সূত্র গেঁথে তোলেন, তাঁর প্রথম কাব্যি “মদীয় ফ্যান্টাসি” ও দ্বিতীয় কাব্যি “ব্লিডিং বরষে হৃদি”র ভেতর।  বিনিসুতোয় এর বিচিত্র মালা গাঁথেন কবি।  অলৌকিক প্রক্রিয়ায় “চুঁয়ে চুঁয়ে শরীর-মন-বোধ-বুদ্ধি-সত্তা থেকে নির্গত হয়ে চলে টক্সিসিটি, কবিতা।”


অবশ্য কবি না লিখলে কি সূত্র খুঁজে পাবেননা পাঠকেরা।  শ্রীমান রাহেবুলের একনিষ্ঠ পাঠকমাত্রই সহজে অনুধাবন করতে পারবেন এই যোগসূত্র।  অপেক্ষা ছিলই প্রায় দেড় বছর ধরে, এই কাব্যির জন্যে।

আসলে কবি সোজা পথে চলেন না কখনই।  নাকি একটু বেশীই সোজা পথে চলেন! শব্দপ্রয়োগে ও ভাবনায় গড়নে পেটনে ভাঙচুর করা ওনার কলমজাত।  কোনো পাঠক হঠাৎ করে পড়তে এলে হোঁচট খাওয়া অবশ্যম্ভাবী।


চেনা ফরম্যাটকে হাতের তালুতে গুঁড়ো গুঁড়ো করাই যদি রাহেবুলের ভবিতব্য হয়ে থাকে, তবে তা আলবত করেছেন উনি।  বেশ করেছেন।  আমরা পাঠকরা এঞ্জয় করি কবির কলম,

 “চাঁদনি রাতি গো।

 চামচিকা সকল বেরিয়েছে প্রণয়ে

 ওয়েলিং জুড়ে ভ্যাম্পায়াররাজ।”

যতিচিহ্ন ব্যাবহারে অভিনবত্ব লক্ষণীয় গত কাব্যি থেকেই।  একটু বেশীই তীব্র করে তোলে কি লেখনীকে!

 “কে ঝুলিয়েছে এইসব দড়ি?

 উচিত ছিল: তাঁর কথাই রাষ্ট্র হওয়া।”

 অথবা

 “সকল কাফেলা ডিম্বের খোঁজে,

 কিংবা যেমতি পালটি খেলে মুখ বা মুখপাত্র: ডিম্ব কারে খোঁজে?”


রাহেবুল তাঁর রচনাকাল নির্ধারণ করেছেন শুরুতেই।  একটা প্রবাহে পড়ে গেলে কিন্তু রচনাকাল গৌণ হয়ে যায়।  কবির কলমে সে দম আছে বৈকি!

তীব্রতা আরও তীব্রতর হয় উপসংহারে। “বধ্যভূমিতে বসে বাধ্য হয়ে” লিখে যাওয়া কবি গদ্য ভাষায় লেখেন, “ইত্যাকার ঈশ্বরকণা বা পরমাণুকণা কারোরই খোঁজে যাইনি আমি কোনোদিন।  অরিজিনালিও আমরা মৃত্যুবিলাসী ছিলাম... কেমন একটা তাগাদা, সেই শেষ বা শুরু, সেখানে পৌঁছোবার...”


শেষ হয়ে হইলনা শেষ: কেন লিখি।  এক অনবদ্য জবানবন্দী।  অবলীলায় লেখেন রাহেবুল, “এই বিগ বিগ ব্যাং-হরিণী-গরু-গিরগিটি-বেজি-ছুঁচোর মেহফিলে নূতন হই, উপজাই, লয় হয়, ক্ষয় হয়।  প্রক্রিয়াটির নাম কবিতা।  গিনিপিগটি আমি।  হতে হতে স্বয়ং কবিতা হই। আর অহং কবি হয়।” 


বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: যেসব পাঠক কবিতাকে অচলায়তনের মত এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখতে চান, তাঁদের এই বইটি না পড়াই ভালো!

শ্রীমান রাহেবুলের জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা রইল।


গ্রন্থ: ব্লিডিং বরষে হৃদি

প্রকাশক: শাঙ্খিক

প্রচ্ছদ: কৃষ্ণেন্দু নাগ

মূল্য: 80 টাকা 

যোগাযোগ: +9195474 58178

Friday, December 10, 2021

রাহেবুল সম্পাদিত অপরজন পত্রিকার বিশেষ বিভাগ

 কবি ও গদ্যকার রাহেবুল কর্তৃক সম্পাদিত ‘অপরজন’ পত্রিকার ‘অপ্রকাশিত কবি’ বা ‘আনডকু পোয়েট’ বিভাগ 


"বিভিন্ন সময়ে আমরা দেখেছি, বহু প্রতিভাশালী কবিই অপ্রকাশিত অপ্রচারিত থাকেন – কখনও বা তাঁদের ভাষা আঙ্গিক শৈলীর বিশেষত্বের কারণে, কখনও জনসংযোগ করতে অক্ষম বা অনিচ্ছুক ব’লে, আবার কখনও হয়ত কেবলমাত্র তাঁর ভৌগলিক অবস্থান বা পরিবেশের কারণে। এমন কত কারণই ঘুরে বেড়ায়। একজন প্রকৃত কবির কাজ লুকিয়ে থাকে অপ্রকাশের আড়ালে।
“অপ্রকাশিত কবি” – অপরজন পত্রিকার একটি প্রয়াস, এমন কবিদের কাজকে সামনে আনার, যাঁরা ব্যপকভাবে প্রকাশিত বা প্রচারিত নন। যাঁদের লেখা হয় এর আগে কোথাও প্রকাশিত হয়নি, অথবা কেবলমাত্র দু’একটি পত্রিকাতেই প্রকাশ পেয়েছে। অথচ যাঁরা লেখার মাধ্যমে আমাদের দেখাতে পারেন ভবিষ্যত বাংলা কবিতার বাঁক।
বিভাগ সম্পাদনা করছেন, রাহেবুল।"
বিবৃতি: অপরজন পত্রিকা

সব সংখ্যার লিংক:


১. অপ্রকাশিত কবি ১ জিয়াভাই-এর কবিতা

https://aparjan.com/2021/03/06/february2021-ziarpo/

২. অপ্রকাশিত কবি প্রতিভা বর্মণ-এর কবিতা

https://aparjan.com/2021/03/31/march2021-undopo/

৩. অপ্রকাশিত কবি গোবিন্দ সরকার-এর কবিতা

https://aparjan.com/2021/04/30/april2021-undopo/

৪. অপ্রকাশিত কবি ইলিয়াস খান-এর কবিতা

https://aparjan.com/2021/05/30/may2021-undopo/

৫. অপ্রকাশিত কবি আসরাফুল -এর কবিতা

https://aparjan.com/2021/06/26/june2021-undopo/

৬. অপ্রকাশিত কবি প্রিয়াঙ্কা ভট্টাচার্য্য-এর কবিতা

https://aparjan.com/2021/07/31/july2021-undopo/

৭. অপ্রকাশিত কবি মহিউদ্দিন সাইফ-এর কবিতা

https://aparjan.com/2021/09/30/september2021-undopo/

৮. অপ্রকাশিত কবি দেবরাজ দে-এর কবিতা

https://aparjan.com/2021/11/06/october2021-undopo/

৯. অপ্রকাশিত কবি দেবমিত্রা চৌধুরী-এর কবিতা

https://aparjan.com/2021/12/04/november2021-undopo/

১০অপ্রকাশিত কবি ১০ কৃষ্ণ দাস-এর কবিতা

https://aparjan.com/2022/01/09/december2021-undopo/

১১. অপ্রকাশিত কবি ১১ দেবকুমার দাস-এর কবিতা

https://aparjan.com/2022/01/30/january2022-undopo/

১২. অপ্রকাশিত কবি ১২ জ্যোতির্ময় বিশ্বাস-এর কবিতা

https://aparjan.com/2022/03/02/february2022-undopo/

১৩. অপ্রকাশিত কবি ১৩ মহঃ শাহ্ নওয়াজ-এর কবিতা 

https://aparjan.com/2022/03/27/march2022-undopo/




Thursday, December 9, 2021

‘ব্লিডিং বরষে হৃদি’র আনুষ্ঠানিক প্রকাশ

 

প্রকাশিত হল রাহেবুলের দ্বিতীয় কাব্যি ‘ব্লিডিং বরষে হৃদি’ 

'ব্লিডিং বরষে হৃদি'র মোড়ক উন্মোচনে কবি দেবজ্যোতি রায়, কবি সুবীর সরকার।

'ব্লিডিং বরষে হৃদি'র মোড়ক উন্মোচনে কবি দেবজ্যোতি রায়, কবি সুবীর সরকার।












৮ ডিসেম্বর ২০২১ আলিপুরদুয়ার ব্যবসায়িক সমিতির টাউন হলে সন্ধ্যাকালীন একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কবি রাহেবুলের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘ব্লিডিং বরষে হৃদি’র আনুষ্ঠানিক প্রকাশ সুসংঘটিত হল। বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন অগ্রজ দুই কবি দেবজ্যোতি রায় ও সুবীর সরকার। অনুষ্ঠানটির আয়োজক 'ব্লিডিং বরষে'র প্রকাশক ‘শাঙ্খিক’ তথা তার কর্ণধার কবি সুকান্ত দাস। 

Tuesday, November 30, 2021

রাহেবুলের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'ব্লিডিং বরষে হৃদি'র প্রকাশ

 

'ব্লিডি বরষে হৃদি'র প্রকাশ ও দু'কথা 


‘মদীয় ফ্যান্টাসি’র পর দ্বিতীয় কাব্যি ‘ব্লিডিং বরষে হৃদি’। 'মদীয় ফ্যান্টাসি' (দু'হাজার দশ-বারো থেকে দু'হাজার আঠারো)-এর পর দু'হাজার উনিশে লিখেছিলাম গোটা কয়েক কবিতা। যেহেতু বেশ ক'বছর ধরে লেখা ফলে 'মদীয় ফ্যান্টাসি' বইটি অনেকটা সংকলন গ্রন্থের মতো ছিল। অন্তর্গত লেখাগুলিও ছিল বেশ ছড়ানো, অনেকদিকে, দিকবিদিকে ছুটছিল সে তীরের ফলকগুলি। 'ব্লিডিং বরষে হৃদি' যেহেতু বছরখানেকের ঘোরে লেখা তার মধ্যে একটা একইরূপ চলন। যদিও সে শেষ অব্দি কি 'মদীয় ফ্যান্টাসি'রই উত্তরণ? যারা 'মদীয় ফ্যান্টাসি' পড়েছেন বা পড়বেন (এখান হতে বা এখান হতে) তারা অবশ্যই এ বইটিও পড়তে চাইবেন, পড়া কর্তব্য মনে করি। নইলে রাহেবুলকে নিয়ে বিভ্রমের মায়াজাল ক্রমশ বাড়বার আশঙ্কা। এরই ফাঁকে কুড়িতে যে ক'টা লিখেছি তারা 'ব্লিডিং বরষে হৃদি'র থেকে আলাদা হয়ে গেল প্রকাশে ও ভাবে-ভাবনায়, নাম হলো তার 'ঘূর্ণন দেখছি'। এগুলি আবার কোন্‌ বছর-কাল-যুগ-এ বইয়ের মুখ দেখবে কে জানে।


কথা হচ্ছে ‘ব্লিডিং বরষে’কে নিয়ে। ২০১৯-এই বইটি বেরনোর কথা ছিল। কিন্তু তা আর হলো কই? এভাবে কুড়ি এল। কিন্তু প্রকাশক পেলাম না। অবশেষে এক প্রকাশক পেলাম, ‘ক্রৌঞ্চদ্বীপ’, কিন্তু দু'হাজার কুড়ি পেরিয়ে গেল, নানা কারণে তাদের পক্ষে বইটি প্রকাশ করা হয়ে উঠলো না আর। একুশে এসে ‘শাঙ্খিক’ বইটা করতে চাইল। ঢিমে তালে চলতে চলতে বছর গেল। অবশেষে একুশের শেষে ‘ব্লিডিং বরষে’ বই হিসাবে আত্মপ্রকাশ করল।  


মাঝে ‘ক্রৌঞ্চদ্বীপ’-এর সঙ্গে বার্তালাপের সময় ‘ক্রৌঞ্চদ্বীপ’-এর সম্পাদক কাম প্রকাশক স্নেহাশিস রায় বইটির খসড়া পিডিএফ আকারে পড়তে দিয়েছিলেন কবি সমীরণ ঘোষকে। কবির সায়েই প্রকাশক বইটি করতে বিশেষ আগ্রহী হন। যদিও শেষমেষ বইটি আর বেরয় না। এবং কবি সমীরণ ঘোষের প্রতিক্রিয়াও বিস্তারিতভাবে বা লিখিত আকারে পড়ার সুযোগ হতে বঞ্চিত হতে হয়। পরবর্তীতে বইটির পিডিএফ-খসড়া নিজ উদ্যোগে আমি কবি ও গদ্যকার দেবজ্যোতি রায়কে দিই। ইচ্ছে ছিল তেমন হলে বইটির মুখবন্ধ বা ব্যাক কভারে কবির মূল্যবান নিরীক্ষণ ব্যবহার করার। কিন্তু সে সময়ে কবির মোবাইল ফোনে সমস্যা থাকায় তাঁর আর পড়া হয়ে ওঠেনি খসড়া। এবং আমারও অপ্রাপ্তি হিসাবেই থেকে যায় বইটির সম্পর্কে হতে পারার মতন একটি মূল্যবান মত। যাক গে। বাকিরা এখন কে কীভাবে নিচ্ছেন বইটিকে সে জানতে পারাটাই অনেকখানি। বইটি কিনতে চাইলে যোগাযোগ: +9195474 58178। 


Tuesday, October 19, 2021

রাহেবুলের কবিতা বিপ

বিপ - রাহেবুল


একটা স্থুল কবিতা হিসাবেই দেখেছি একে ('মদীয় ফ্যান্টাসি'র আণ্ডাবাচ্চা) এতদিন, আজও দেখি। ফলত এড়িয়েই যেতে চেয়েছি। এদিকে আদ্দিকাল টু আজকে আমরা সেই স্থুলতারই পূজারি। ধর্ম, ধর্মের ষাঁড়, গরু, উট, শূয়র, শূয়রের বাচ্চা, এবং ইহাদের মারামারি কাটাকাটি রক্তারক্তি ধস্তাধস্তি। চল ঠিকই আছে। 

.....


বিপ


আপত্তি ছিল না উধাও হতে সেখানে তোর কোনো ব্রান্ডেড চুম্বনে। মিছে কৃষ্ণকালোর গ্যালাক্সিতে একটা। 

একটা সাতমহলা টং-ঘর বাঁধিয়া লইতে।


কোথাও এক ডারপোক লুকোনো চাপাতি। কোথাও এরকমই এক আনপর হাম্বা। কোথাও এরকমই কত। আর আয়নামহলে আটকা সেই অজ্ঞেয় তুমি।


ফেরত ভাবছ তুমি 

সবটা লালে রাঙানো হয়নি তো এখনো ডিএনএর ঠোঁট। আরো বাকি বিস্তর সেই প্রেম। নোয়া-নৌকার পাড়ি।




Saturday, August 14, 2021

'ব্লিডিং বরষে হৃদি'র প্রচ্ছদ প্রকাশিত হলো

প্রকাশিত হলো রাহেবুলের দ্বিতীয় কাব্যি 'ব্লিডিং বরষে হৃদি'র প্রচ্ছদ

'ব্লিডিং বরষে হৃদি'র প্রচ্ছদ

অবশেষে রাহেবুলের দ্বিতীয় বই 'ব্লিডিং বরষে হৃদি'র প্রচ্ছদ প্রকাশিত হলো। বইটির কবিতাগুলির রচনাকাল ‘মদীয় ফ্যান্টাসি’র পরবর্তীতে ২০১৯ সালে, দু’একটি কবিতা অবশ্য কুড়িরও রয়েছে এতে। যারা ‘মদীয় ফ্যান্টাসি’ পড়েছেন তারা নিশ্চয়ই এর অপেক্ষায় থাকবেন, নতুন কেউ চাইলেও উঁকি দিতে পারেন এই বইয়ের দুই মলাটে কারণ 'মদীয় ফ্যান্টাসি'র লেখাজোখার সাথে এর বিস্তর ব্যবধান, তৃতীয় বই 'ঘূর্ণন দেখছি' এলে তাতে আর এক মেজাজ পাবেন পাঠক এও আগাম বলে রাখি। আরেকটি গোপন কথা হলো এই বইয়ে কেবল কবিতাই নেই নিজের দু'একটা ছাইপাঁশ গদ্যও আছে, বইয়ের গড়নটা বোধ করি ভালো লাগবে কারোর কারোর। হাতে পেতে আর ক’টা দিনের অপেক্ষা! 

 

বইটির প্রচ্ছদ করেছেন শিল্পী কৃষ্ণেন্দু নাগ। নামাঙ্কণ শিল্পী সুপ্রসন্ন কুণ্ডুর। প্রকাশক শাঙ্খিক, কোচবিহার।

 



Saturday, May 15, 2021

রাহেবুলের লেখাজোখা

 


রাহেবুলের লেখাজোখা 

মাঝে একদিন বই দিবস গিয়েছিল। কবে যেন? যাই হোক ওদিনকে আমি আমার বইয়ের কথা কই নাই। আজকে মনে পড়ল। আজকে কই। আমার প্রকাশিত বই মানে ওই আরকি কবিতার বই থুড়ি কাব্যি আছে একটা নাম তার 'মদীয় ফ্যান্টাসি'। প্রকাশক সৃষ্টিসুখ, কলিকাতার। আর দুইখান অপ্রকাশিত বই আছে, ওই কাব্যই-- একটা হলো গিয়ে 'ব্লিডিং বরষে হৃদি' আরেকটা হলো 'ঘূর্ণন দেখছি'

এর পর একটা গদ্যের বই রেডি হচ্ছে। নামও রেডি হচ্ছে। আপাতত দুই হাজার দশ-বারো থেকে এই হলো পত্রিকায় প্রকাশিত লেখাজোখা। বাদ বাকি ৮০-৮৫ খানা বাচ্চাবেলার ডায়েরি।

ভেবেছি করোনাদেবী ঘরেতে এলে এইসব দেব তারে উপঢৌকন। পটবে কি? 😜

১৫.০৫.২০২১